মাসিক চক্র ধারাবাহিক – প্রথমভাগ- জীববিদ্যা

মাসিকচক্র চলাকালীন স্ত্রী জননতন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গের চক্রাকার জৈবিক পরিবর্তন ঘটে। বিভিন্ন স্ত্রী জনন অঙ্গ যেমন ডিম্বাশয়(Ovary), জরায়ু(Uterus), সার্ভিক্স, যোনি(Vagina) সম্পন্ন স্ত্রী দেহে মাসিক চক্র একটি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতি মাসে ডিম্বাশয় একটি করে বিশেষ কোষ তৈরী করে যা জনন একক হিসেবে কাজ করে। এই একক হল ডিম্বাণু বা ওভাম যা যৌন মিলনের সময় প্রজনন নালীর মধ্যে ঢুকে পড়া শুক্রাণুর সাথে যুক্ত হয়।

গর্ভাবস্থাকালে, একটি ডিম্বাণু(Egg) ও একটি শুক্রাণু(Sperm) যুক্ত হয়ে তৈরী করে একটি কোষ, যা থেকে তৈরী হয় ভ্রূণ, ভ্রূণ আটকে থাকে জরায়ুর দেওয়ালে এবং ক্রমশ রূপান্তরিত হয় পূর্ণাঙ্গ মানবশরীরে যা শেষপর্যন্ত জন্ম নেয়। তাই প্রতিমাসে, ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিলিত না হলে জরায়ু তার অনুকূল পরিবেশ তৈরী করে যা পরবর্তীকালে নয় মাসের মধ্যে ভ্রূণের একটি নতুন মানবশরীর রূপায়ণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। ভ্রূণের বেঁচে থাকা ও বড় হওয়ার পুষ্টির জন্য এবং ভ্রূণকে জরায়ুর দেওয়ালে আটকে রাখার জন্য জরায়ুর দেওয়াল ক্রমশ পুরু ও রক্তজালিকাপূর্ণ হয়ে ওঠে।ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিলিত না হলে জরায়ুর দেওয়ালের পুরুত্ব মাসিকচক্রের রক্তের আকারে শরীর নিঃসৃত করে।

মাসিকের রক্তের গঠনগত উপাদানগুলির মধ্যে পড়ে প্রচুর পরিমাণ রক্তকণিকা, কিছু সংখ্যক রক্তপিন্ড, জরায়ুর দেওয়ালে যুক্ত কলা এবং যোনিকোষ ও সার্ভিক্স নিঃসৃত তরল যা মূলত জল, আয়ন, মিউকাস(একপ্রকার পিচ্ছিল তরল) ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ে তৈরী। রক্তের ধাতব আয়ন যেমন লোহা, তামা ও একটি স্বাস্থ্যকর যোনিতে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া মাসিকচক্র নিঃসৃত রক্তের বিশেষ গন্ধের কারণ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: